বাবা তার মেয়ের শখ পূরণ করার জন্য জোগাড় করলেন পালকি - The News Lion

বাবা তার মেয়ের শখ পূরণ করার জন্য জোগাড় করলেন পালকি




দি নিউজ লায়ন ;  কন্যা বলে ফেলনা নয় ।অনেক পরিবার তার মেয়েকে যেভাবে ভালোবাসেন সেখানে ছেলে মেয়ে বলে আলাদা ভাবেন না আবার অনেক মেয়ের শখ কিংবা তার যা চাই সেই আশা পূরণ করতে বাবা মা ছোটথেকেই পূরণ করে চলে। মেয়েকে একসময় বিয়ে দিয়ে অন্য ঘরে পাঠাতে হয় সেই সন্ধিক্ষন খুব বেদনাদায়ক হলেও মেনে নিতে হয়। এটাই রীতি এটাই নীতি।তাই  মেয়ের শখ ছিল বিয়ের পর বিদায় বেলায় পালকি করে যাওয়ার। সেই ইচ্ছা পূরণ করলেন বাবা। 


এই সময় পালকি তাও আবার আধুনিক যুগে যেখানে আধুনিকতার দৌলতে সব কিছুই দ্রুত পাল্টাচ্ছে তার মধ্যে থেকেই বাবা তার মেয়ের শখ পূরণ করার জন্য জোগাড় করলেন পালকি। জোগাড় হলো পালকি। ছয়জন বেয়ারা, বাজনা সহ কন্যাযাত্রীরা গেলেন। বিয়ের মশরুম চলছে নানা ধরনের গাড়ি নানা ধরনের বাস কিংবা ঘোড়ার গাড়ি দেখলেও এমনকি নাদিয়াতে  বর কে রোলার করে বিয়ে করতে দেখা গেলেও কন্যা কে পালকি করে বিদায় জানানো একবারই লেটেস্ট।  


হেঁইয়াহো... হেঁইয়া হো... বলতে বলতে জনা ছয়েক পালকি বাহক, নতুন ধুতি গেঞ্জি পরিহিত এবং কোমরে গামছা বেঁধে কাঁধে পালকি তুলে ডুলকি চালে, নববধূকে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে। পাশে ঢোলক তাশা ব্যঞ্জনের মত বাজনার তালে তালে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলেছেন কন্যাযাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার বগুলা শিলবেড়িয়া অঞ্চলে।  


দিলীপ কুমার সাহা তার  মেয়ের শখ পূরণে বিবাহ মন্ডপ নির্মাতার সহযোগিতায় বহুকষ্টে খুঁজে পেয়েছেন নদীয়ার শান্তিপুরে। পালকি দিয়েছেন কল্যাণ পাল। কল্যান বাবু নাট্যকর্মী তাই সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যই দীর্ঘ কুড়ি বছর যাবৎ পালকি, রনপা ,মহিলা ঢাকি, ঘোড়া, কুলো নাচ, নানা উপাচার এর ব্যবস্থা করে থাকেন। যাকে বর্তমান হাল ফ্যাশনের ভাষায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বলে থাকি আমরা।


সেই দ্বাদশ থেকে ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত বিয়ের বাজারে বাহন হিসাবে পালকির কোন জুরি ছিল না।মোটর গাড়ির সাথে পাল্লা দিতে না পারায় বর্তমানে পারি দিচ্ছিলো ইতিহাসে, কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অভিনবত্বের এক্সকুলুসিভ খুঁজতে গিয়ে, কিছু না পেয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসছেন সেই সাবেকিয়ানা। 


এই নদীয়াতে সেন রাজাদের রাজধানী নবদ্বীপে একসময় বহু রাজা জমিদারেরা বাস করতেন। উৎসব অনুষ্ঠানে জাকজমকের অন্যকে টেক্কা দিতে ফিটন পালকি ঘোড়া হাতি নিয়ে শোভাযাত্রাসহ বর-বউ নিয়ে আসার প্রথা এখানে বহুকালের। শোভাযাত্রায় প্রথমের দিকে ব্যবহৃত হতো মশাল পরবর্তীতে গ্যাস বাতি, বেলোয়ারী ঝাড় বাতি।

বর্তমান যুগের প্রজন্ম পালকি কেমন ভাবে নিয়ে যায়।কেমন হয় সেটা সবারই অজানা ।এমন ঘটনা এখনকার প্রজন্মের কাছে সত্যিই বিস্ময়। মেয়ের শখের জন্য বাবার এমন প্রচেষ্টা সত্যিই অনেকের কাছে ঈর্ষার ।কন্যা সন্তান ও বাবা মায়ের কাছে ঈর্ষার ভালোবাসার সেটাই বড় উদাহরণ হয়ে ধরা থাকলো। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.